পৃষ্ঠাসমূহ

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

মঙ্গলবার, ১৫ মার্চ, ২০১১

এসিড বৃষ্টি হবার সম্ভাবনা

জাপানে ঘটে যাওয়া পরমানু চুল্লী বিস্ফোরণের জের ধরে আশেপাশের অঞ্চলে এমনকি ভারতীয় উপমহাদেশেও এর প্রতিক্রিয়া ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সাধারণত তেজষ্ক্রিয়তার ফলে মেঘের পানিকনার সাথে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে সৃষ্টি হয় এসিড এবং সাধারণ মেঘের চেয়ে এই এসিড মেঘ অত্যন্ত দ্রুত আশপোশের অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। চেরনোবিল বিস্ফোরণের সময় ইউরোপের আশপাশের দেশগুলোতে এর ভয়াবহতা দেখা গিয়েছিল। পুর্ব ইউরোপে বেশকিছু পার্বত্য অঞ্চল থাকায় এর প্রকোপ আমাদের ওপর পড়েনি। কিন্তু এখনও সেই ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছে ওই অঞ্চলের অনেক কিছু মানুষ।

এবার জাপানের ঘটনায় আমরাও সেই ঝুঁকির মধ্যে রয়েছি। মাঝখানে উল্লেখযোগ্য উঁচু পর্বতমালা না থাকা এবং সমুদ্র উপকূলের নৈকট্যের কারণে এ ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় অল্প সময়ের মধ্যেই এসিড বৃষ্টি হতে পারে চীন জাপান, তাইওয়ান কম্বোডিয়া থাইল্যান্ড ছাড়িয়ে বাংলাদেশেও। ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া এমনকি অস্ট্রেলিয়াও এই ঝুঁকির বাইরে নয়।

এই ঝুঁকির সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে আগামী আজসহ দু'দিন বৃষ্টি হলে ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ করে ঘরে বসে থাকতে হবে। যারা বৃষ্টির পানি ধরে রেখে খাওয়াসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করেন আপাতত তারা পানি ধরবেন না। এই বৃষ্টির মধ্যে এসিডের বাইরেও তেজষ্ক্রিয় অন্যান্য উপাদান মেশানো থাকতে পারে। এই বৃষ্টির বিভিন্ন ক্ষতিকর দিকের পাশপাশি প্রধান টার্গেট হল থাইরয়েড। থাইরয়েডে আক্রমণ করে ক্ষত সৃষ্টির পাশপাশি ক্যান্সারও আমদানি করতে পারে এই তেজষ্ক্রিয় বৃষ্টি। তাই বৃষ্টির সময় এবং এর পরের কিছু সময় গলায় মাফলার বা কাপড় জড়িয়ে রাখা উচিত।

শাকসবজি বা অন্যান্য ফল-ফসলের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো হয়তো সম্ভব না তবে যতটুকু মিনিমাইজ করা যায় ততটুকুই লাভ। সবজি বা ফল বাগান তেরপল দিয়ে ঢেকে রাখার পরামর্শ দিয়ে লাভ নেই। তবে পরিপক্ক বা তোলার যোগ্য হয়েছে এমন শাকসবজি বা ফলমূল আহরণ করা যেতে পারে।

তবে এ নিয়ে খুব বেশি আতংকিত হবার কারণ নেই। এটি শুধুই ঝুঁকিমাত্র, না হবার সম্ভাবনাও আছে। তাই একটু সচেতন থেকে মোকাবেলা করলেই খুব বেশি ক্ষয়ক্ষতি হবে না।

========================================================

শেষ হয়ে যাচ্ছে প্রবাল

প্রবাল অ্যান্থজোয়া শ্রেণীভুক্ত সামুদ্রিক প্রাণী। সাগরের প্রধানতম খাদ্যের উৎস। পৃথিবীর অর্ধেক মাছই তাদের খাদ্যের জন্য প্রবালের ওপর নির্ভরশীল। পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষ, এমনকি শুধু এশিয়ারই ১০০ কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা প্রবালের ওপর নির্ভরশীল। বিশ্বজুড়ে প্রবাল মারা যাচ্ছে। তাই বিজ্ঞানীরা ও বিভিন্ন দেশের সরকার পৃথিবী থেকে প্রবাল উধাও হয়ে গেলে এর পরিণতি কি হতে পারে তাই ভেবে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। যদি সব প্রবাল নিঃশেষ হয়ে যায়, তাহলে ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও রাজনৈতিক অস্থিরতা অত্যাসন্ন হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর দ্য কনজারভেশন অব নেচার-এর কার্ল গুস্টাফ লুন্ডিন বলেন, বিভিন্ন দেশ তখন অস্তিত্বের হুমকির মুখে পড়বে।সাগরের সব প্রাণীর খাদ্যের উৎস প্রবালের সবচেয়ে নিকটাত্দীয় হলো সাগর কুসুম। এরা সাগর কুসুমের মতোই পলিপ তৈরি করে। তবে সাধারণত এরা কলোনি তৈরি করে বসবাস করে। কলোনির সব পলিপ জিনগতভাবে (জেনেটিক্যালি) অভিন্ন হয়। এরা প্রাণী হলেও পূর্ণবয়স্ক অবস্থায় সাগরতলে কোনো দৃঢ় তলের ওপর গেড়ে বসে বাকি জীবন পার করে দেয় নিশ্চল হয়ে। নানা গবেষণায় দেখা গেছে, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে প্রবালের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়তে যাচ্ছে। এর পেছনের মূল কারণ হচ্ছে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও উপকূল উন্নয়ন। এর সঙ্গে রয়েছে মাছধরা নৌকাগুলোর সমুদ্র তলদেশের তৎপরতা এবং আন্তর্জাতিকভাবে প্রবালের তৈরি জুয়েলারি ও শো-পিস তৈরির প্রবণতা। সবচেয়ে আশঙ্কার বিষয় হলো_ পৃথিবীর শতকরা ১৯ ভাগ প্রবাল ইতোমধ্যেই উধাও হয়ে গেছে। এর মধ্যে ক্যারাবিয়ান অঞ্চলের প্রায় ৫০ ভাগ প্রবালই মারা গেছে। আরো ১৫ ভাগ প্রবাল আগামী ২০ বছরের মধ্যেই নিঃশেষ হয়ে যাবে বলে জানিয়েছে ন্যাশনাল ওশিয়ানিক এন্ড এটমোস্ফিয়ারিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন। ওয়ার্ল্ড ওয়াইড কনশাস অব মেরিন স্পিশিসের ডিরেক্টর ও ওল্ড ডোমিনিওন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর কেন্ট কার্পেন্টার সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, বিশ্ব উষ্ণায়ন যদি অব্যাহতভাবে চলতেই থাকে, তবে আগামী ১০০ বছরে সব প্রবাল নিঃশেষ হয়ে যাবে। প্রবাল নিঃশেষ হয়ে গেলে সমুদ্রের ইকোসিস্টেম সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে যাবে। তিনি আরো বলেন, এই ভারসাম্যহীনতার জন্য সব প্রাণীর জীবনে জলপ্রপাতের মতো তরঙ্গিত পতন নেমে আসবে।বিচিত্র রঙিন প্রবালগুলোকে দেখতে প্রাণহীন পাথর মনে হলেও এরা মোটেই প্রাণহীন পাথর নয়। এরা জীবন্ত, শক্ত ক্যালসিয়াম কার্বোনেট দিয়ে তৈরি। একবার তাদের মৃত্যু হলে পাথুরে দেহ ক্ষয়প্রাপ্ত হতে থাকে। তখন মাছ মৃত প্রবাল থেকে আর খাবার পায় না। বিশেষজ্ঞদের মতে, সমুদ্রের পানির তাপমাত্রা বৃদ্ধি, কার্বন নিঃসরণ ও পানির এসিডিফিকেশন ঠেকাতে প্রবাল ঘেরা অঞ্চলকে মাছধরা ও ডাইভিংমুক্ত এলাকা ঘোষণা করা, উপকূলীয় অঞ্চলের উন্নয়ন বন্ধ করা ও সেখানকার জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে প্রবালের এই মৃত্যহার রোধ করা যেতে পারে। বিশ্বজুড়ে এ উদ্যোগ না নিলে গোটা সমুদ্রই প্রাণহীন হয়ে পড়বে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার ১৪০ বর্গমাইল এলাকা এরকম নো-টেইক জোন ঘোষণা করা হয়েছে। কতগুলো গুচ্ছ প্রবালদ্বীপের সমন্বয়ে তৈরি ড্রাই টরটাগাস ন্যাশনাল পার্কে এভাবে সীমারেখা টেনে দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে এর বিরোধীদেরও অভাব নেই। অনেক মৎস্যজীবী এ ধরনের নিষেধাজ্ঞার বিপক্ষে। এছাড়াও পরিবেশ রক্ষার বিভিন্ন পদক্ষেপ নানা ধরনের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বিরোধিতার সম্মুখীন হয়। সম্প্রতি কনভেনশন অন দ্য ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড ইন এনডেঞ্জারড স্পিশিস অব ওয়াইল্ড ফোনা এন্ড ফ্লোরাতে আমেরিকা ও সুইডেন কিছু কিছু প্রবাল প্রজাতির কেনাবেচা নিষিদ্ধকরণের প্রস্তাব পেশ করলে তা ভোটাভুটিতে নাকচ হয়ে যায়। যদি প্রবাল সব নিঃশেষ হয়ে যায় তবে প্রবালের সবচেয়ে সুলভ প্রজাতি গ্রুপার ও স্ন্যাপারও ইতিহাসে পরিণত হবে। অয়েস্টারস, ক্লামসসহ অন্যান্য নানা প্রজাতি, যেগুলো বহু লোকের খাদ্য সেগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সিফুডসহ সমুদ্রের বাণিজ্যিক মৎস্য আহরণ বিপুলভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।অর্থনৈতিক ক্ষতি হবে অবর্ণনীয়। জাতিসংঘের মতে, সামুদ্রিক মৎস্য আহরণের ওপর পৃথিবীর কমপক্ষে ৩৮ মিলিয়ন লোক নির্ভরশীল, তার সঙ্গে আরো ১৬২ মিলিয়ন মানুষ মৎস্য শিল্পের সঙ্গে জড়িত। যদি প্রবাল নিঃশেষ হয়ে যায় তবে পৃথিবীকে এর মাশুল দিতে হবে। কিছু কিছু প্রবাল ও সামুদ্রিক প্রাণীর ওপর ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিগুলো নির্ভরশীল। ক্যান্সার, আর্থ্রাইটিস ও ভাইরাসের চিকিৎসায় এগুলোর সম্ভাব্য ব্যবহার রয়েছে। প্রবাল ছাড়া বিশ্ব কল্পনা করা যায় না। তাই বিশ্বজুড়ে প্রবাল রক্ষায় সবার এগিয়ে আসা উচিত।

রবিবার, ১৩ মার্চ, ২০১১

নানোটেকনলজি কি?

নানোটেকনলজি এর শুরুর কথা
একুশ শতাব্দিতে এসে আইটি নিয়ে কথা যতটা শোনা গেছে, ততটাই শোনা গেছে এই নানোটেকনলজি। জাপান এর জাতীয় গবেষনা বাজেটের সিংহভাগই ব্যবহৃত হচ্ছে নানোটেকলজি সংক্রান্ত বিষয়গুলিই উপর। শুধু মাত্র জাপানই নয় ইউরোপ, আমেরিকা, চিন, কোরিয়া সবগুলি দেশই উঠেপড়ে লেগেছে এই সংক্রান্ত গবেষনা নিয়ে। কেন? তারা এই বিষয়ে সবথেকে অগ্রগামী হতে চাই। এই বিষয়ে লিডার হতে চাই। আমেরিকা আইটি তে এগিয়ে থাকলেও নানোটেকনলজিতে অন্যান্য দেশগুলি পিছিয়ে থাকতে চায় না। তাই ভিষণ প্রতিযোগীতা চলছে দেশে বিদেশে। কেন নানোটেকনলজি নিয়ে সবার এত আগ্রহ? তার একটা সহজ উত্তর হল, সামনের দিন হবে নানোটেকনলজির যুদ। আপনার হৃদরোগ হয়েছে? নানো রবোট আপনার শরীরের ভিতরে ঢুকে সেই সব মেরামত করে দিবে। আপনার হাতের ঘড়িটি হয়ে যাবে আপনার কম্পিউটার আপনার মোবাইল, সব কিছুই। তা সম্ভব হবে নানোটেকনলজির বদৌলতে।


নানো টেকনলজি কি?

নানো একটি মাপার একক। ম্যাট্রিক একক এর শুরুটা হয়েছিল ১৭৯০ সনে ফ্রান্সে। ফ্রান্স জাতীয় পরিষদ এককগুলিকে সাধারণ করবার জন্য কমিটি গঠন করে এবং তারাই প্রথম ডেসিমাল কিংবা দশ একক এর ম্যাট্রিক পদ্ধতির প্রস্তাব করেন। এবং দৈর্ঘের একক এক মিটার এর সূচনা করেন। তারা পৃথিবীর পরিধির ৪০,০০০,০০০ ভাগের এক ভাগকে এক মিটার বলেন। মিটার শব্দটি গ্রীক শব্দ metron থেকে এসেছে যার অর্থ হল, পরিমাপ। এছাড়া মিটার এর ১০০ ভাগের এক ভাগকে সেন্টিমিটার বলা হয়। ১৭৯৩ সনে ফ্রান্সে আইন করে তা প্রচলন করা হয়। ১৯৬০ সনে এই মিটার এর সংজ্ঞা পরিবর্তন করা হয়। ক্রিপটন ৮৬ এর কমলারঙের রেডিয়েশন এর তরঙ্গদৈর্ঘের ১,৬৫০,৭৬৩.৭৩ ভাগের এক ভাগকে মিটার বলা হয়। ১৯৮৩ সনে মিটার এর সংজ্ঞা পুনরায় পরিবর্তিত করা হয়, বর্তমান সংজ্ঞা অনুযায়ী, বায়ুশুন্যে আলোর গতির ২৯৯,৭৯২,৪৫৮ ভাগের এক ভাগকে মিটার বলা হয়। এই মিটার এর ১,০০০,০০০,০০০ (১০০ কোটি) ভাগের এক ভাগকে নানোমিটার বলা হয়। নানো শব্দটি গ্রীক nanos শব্দ থেকে এসেছে যার অভিধানিক অর্থ হল dwarft কিন্তু এটি মাপের একক হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। আর এই নানোমিটার স্কেলে যে সমস্ত টেকনলজি গুলি সর্ম্পকিত সেগুলিকেই বলে নানোটেকনলজি।

মিটার এককটি আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সাথে জড়িত। বাড়িঘর আসবাবপত্র সবই আমরা মাপি এই মিটার এককে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগ পর্যন্ত মিলিমটার স্কেলে যন্ত্রপাতির সূক্ষতা মাপা হত। মিলিমিটার এর ছোট কোন কিছু নিয়ে চিন্তা ভাবনার অবকাশ ছিলনা। কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হবার পরে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে এক নতুন যুগের সূচনা হল। সেমিকন্ডাকটর তার পথযাত্রা শুরু করল। আর এর শুরুটা হল, ট্রানজিস্টর আবিষ্কার দিয়ে। তখন মাইক্রোমিটার একক দিয়ে আমাদের চিন্তভাবনা শুরু হল। বলা যায় যাত্রা শুরু হল, মাইক্রোটেকনলজির।

এর পরে টেকনলজি এগুতে লাগলো প্রচন্ড গতিতে। ভাগ্যো জিনিসপত্র, যার মধ্যে টেলিভিশন, রেডিও, ফ্রিজ ইত্যাদি ইত্যাদি। আর তা কিভাবে আরো ছোট করা যায় তা নিয়েই প্রচন্ত যুদ্ধ শুরু হয়ে গেল। কোন কম্পানি কত ছোট আকারের এই সমস্ত ভোগ্য জিনিস আমাদের কাছে পৌছাতে পারবে, তার প্রতিযোগীতা শুরু হল। আর এই সমস্ত ব্যাপারটা সম্ভব হল, সেমিকন্ডাকর সংক্রান্ত প্রযুক্তির কল্যাণে। প্রথম দিকের রোডিও কিংবা টিভির আকার দেখলে আমাদের এখন হাসি পাবে। এত বড় বড় জিনিস মানুষ ব্যাবহার করত কিভাবে? সেই প্রশ্নটি হয়তো এসে দাড়াবে। কিন্তু এখন বাজারে দেয়ালে ঝুলাবার জন্য ক্যালেন্ডারের মত পাতলা টিভি এসেছে। সামনে হয়তো আরো ছোট আসবে।

১৯৮০ সনে IBM এর গবেষকরা প্রথম আবিষ্কার করেন STM(Scanning Tunneling Microscope) এই যন্ত্রটি দিয়ে অনুর গঠন পর্য়ন্ত দেখা সম্ভব। এই যন্ত্রটির আবিষ্কারই নানোটেকনলজিকে বাস্তবে রুপ দিতে সক্ষম হয়েছে। কিভাবে কাজ করে এই STM। এই যন্ত্রে খুব সূক্ষ পিনের মত সুচাল টিপ আছে এবং তা যখন কোন পরিবাহী বস্তুর খুব কাছে নিয়ে যাওয়া হয়, তখন তা থেকে টানেলিং নামে খুব অল্প পরিমানে বিদ্যুত পরিবাহিত হয়। এবং এই বিদ্যুত এর পরিমান দিয়েই সেই বস্তুটির বাহিরের স্তরের অনুর চিত্র তৈরী করা হয়। তবে এই STM এর ক্ষেত্রে যা দেখতে চাইবো তাকে অবশ্যই বিদ্যুত পরিবাহী হতে হবে। কিন্তু বিদ্যুত অপরিবহীর অনুর গঠন কিভাবে দেখা যাবে? না মানুষ বসে থাকেনি। অসম্ভবকে সম্ভব করেই মানুষ যেভাবে এতদূর এসেছে, তেমনি ভাবে এই অসম্ভবকে সম্ভব করা গেল AFM দিয়ে। STM এর ক্ষেত্রে টানেলিং বিদ্যুত দিয়ে কাজ করা হয় এবং AFM দিয়ে সুক্ষ পিন দিয়ে অনুর গঠন দেখা সম্ভব।


টপটুডউন ও ডাউনটুটপ:
নানোটেকনলজির ক্ষেত্র দুটি পক্রিয়া আছ। একটি হল উপর থেক নীচে (Top to Bottom)ও অপরটি হল নীচ থেক উপর (Bottom to top)। টপডাউন পদ্ধতিতে কোন জিনিসকে কেটে ছোট করে তাকে নির্দিস্ট আকার দেয়া হয়। এই ক্ষেত্র সাধারণত Etching প্রক্রিয়াটি সর্ম্পকিত। আর ডাউনটুটপ হল ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আকারের ছোট জিনিস দিয়ে বড় কোন জিনিস তৈরী করা। আমাদেরর বর্তমান ইলেক্ট্রনিক্স হল, টপডাউন প্রযুক্তি। আর নানোটেকনলজি হল, বটমটপ প্রযুক্তি। নানোমিটার স্কেলে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বস্তুর উপাদান দিয়ে তৈরী করা হবে এই নানোপ্রযুক্তিতে। সহজে বুঝবার জন্য একটা উদাহরণ দেয়া যাক। মনে করুন, আপনার একটা বিশেষ ধরনের DNA এর প্রয়োজন। সুতরাং বটমটপ প্রযুক্তিতে, সেই DNA এর ছোট ছোট উপাদান গুলিকে মিশ্রন করে সেই কাঙ্খিত DNA টি তৈরী করা হবে। তবে নানোপ্রযুক্তিতে শুধু মাত্র বটমটুটপ প্রযুক্তিই নয়, বরং টপটুবটম প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই দুটির সংমিশ্রন করা হবে।

আমরা যারা কম্পিউটার ব্যবহার করছি তারা জানি যে, প্রতি বছরই কম্পিউটার এর মূল্য কমছে। প্রতিবছরই আগের তুলনায় সস্তায় আরো ভাল কার্যক্ষমতার কম্পিউটার পাওয়া যাচ্ছে। আসলে এই কম্পিউটার এর সাথেও নানোটেকনলজি সম্পর্কিত রয়েছে। কম্পিউটার এর ভিতর যে প্রসেসর আছে, আপনারা প্রায় সবাই ইন্টেল প্রসেসর এর নাম শুনে থাকবেন? এই প্রসেসর এর ভিতরে রয়েছে অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নানোমিটার স্কেলের সার্কিট। আর তাতে ব্যবহৃত হচ্ছে নানোটেকনলজি। ইন্টের প্রসেসরে, সিলিকন এর উপর প্যাটার্ণ করে সার্কিট বানান হয় তার বর্তমান সাইজ হল ১০০ নানোমিটার। সামনের তিন বছরে এর আকার হবে ৭০ নানোমিটার। এবং সাতবছরে এর আকার হবে ৫০ নানোমিটার। ইন্টেল আশা করছে যে ২০১০ সনে তারা ৩০ নানোমিটার সাইজে নিয়ে আনতে পারবে। আর আজকের থেকে তখন এই প্রসেসর এর আকার অর্ধেক হয়ে আসবে। সেই দিনটা খুব বেশী দূরে নয় যেদিন আপনার মোবাইলটি কাজ করবে কম্পিউটারের মত। (বর্তমানেই এই ধরনের কিছু মোবাইল বাজারে এসেছে)। এছাড়া রয়েছে কম্পিউটারের হার্ডডিস্ক। এই হার্ডডিস্কের তথ্য সংরক্ষনের ক্ষমতা দিন দিন বড়ছে। এই হার্ডডিস্কেও ব্যবহৃত হচ্ছে নানোটেকনলজি। এখন বাজারে ৩০০ গিগাবইটেরর হার্ডডিস্ক পাওয়া যাচ্ছে। আথচ এই ব্যাপারটা আজ হতে ১০ বছর আগও ছিল কল্পনার বাহিরে।


স্থির বিদ্যুত ভুত

নানোটেকনলজি দিয়ে সার্কিট বানান যতটা সোজা বলে মনা করা হয়, ব্যাপারটা ততটা সোজা নয়। সেইখানে প্রধান যে বাধা এসে দাড়াবে তা হল, স্থির বিদ্যুত। শীতের দিনে বাহির থেক এসে দরজার নবে হাত দিয়েছেন? এমনি সময় হাতে শক লাগে। কিংবা অন্ধকারে সুয়েটার খুলতে গেছেন এমনি সময় বিদ্যুত এর মত কনা সুয়েটারে দেখা গেল। এইগুলি সবই আমাদের প্রাত্যাহিক দিনে ঘটে, আর এইগুলিই হল স্থির বিদ্যুতের কারসাজি। সাধারণ ইলেক্ট্রিক সার্কিটের মধ্যে এই স্থির বিদ্যুত থেকে সার্কিটটিকে রক্ষা করার ব্যবস্থা থাকে। যদি তা না করা হত, তাহলে কোন একটা কারণে স্থির বিদ্যুত আপনার বৈদুতিক সারঞ্জামকে নষ্ট করে দিত। কিন্তু নানোটেকনলজির ক্ষেতে বৈদ্যুতিক সার্কিট কল্পনাতিত ছোট হয়ে যায় বর গতানুগতিক পদ্ধতিতে রক্ষা করা সম্ভব নয়। কিভাবে নানোস্কেলেও এই সার্কিটগুলিকে রক্ষা করা যায় তা নিয়ে বিজ্ঞানীরা গবেষনা করছেন। স্থির বিদ্যুত সার্কিটে কিরকম ক্ষতি করতে পারে? প্রকৃতপক্ষে ছোটসার্কিটে স্থিরবিদ্যুত প্রায় ১৫০০ ডিগ্রী সেন্টিগ্রড এর মত তাপ সৃষ্টি করে। এই তাপে সার্কিট এর উপকরণ গলে, সেই সার্কিটটিকে নষ্ট করে দিতে পারে। এই কারণে ১৯৯৭ এর পরে IC সার্কিটে গতানুগতিক ভাবে ব্যবহৃত এলুমিনিয়ামের পরিবর্তে তামা ব্যবহৃত হয়। কেননা তামার গলনাঙ্ক ১০৮৩ যেখানে এলুমিনিয়ামের গলনাঙ্ক ৬৬০ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড। ফলে অধিক তাপমাত্রাতেও তামা এলুমিনিয়ামের তুলনায় ভাল কাজ করবে।


একদম শুরুর কথাঃ
১৯৮৯ সনের নভেম্বরের ৯ তারিখ খুব সম্ভবত নানোটেকনলজির জন্য একটা অন্যতম স্মরণীয় দিন হিসবে বিবেচিত হবে। এই দিনে ক্যালিফোর্নিয়ার IBM এর Almaden Research Center এ Don Eigler এবং Erhard Schweizer ৩৫ টি Xenon অনু দিয়ে IBM এর লগোটি তৈরী করেছিলেন। সেইদিনই প্রথম অনুকে ইচ্ছেমত সাজিয়ে পছন্দমত কিছু তৈরী করা সম্ভব হয় মানুষের পক্ষে। তাই দিনটি হয়তো আজ হতে অনেক বছর পরে নানোটেকনলজির ক্ষেত্রে প্রথম মাইল ফলক হিসাবে পরিগনিত হবে। এইদিনই প্রথম মানুষ প্রকৃতির সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি অনুর কাঠামোকে ভাঙতে সক্ষম হয়েছিল। অনুর গঠনকে ইচ্ছেমত তৈরী করে অনেক কিছু করা সম্ভব। এক বিশাল সম্ভাবনার দ্বার মানুষের সামনে উন্মোচিত হল। ব্যাপারটা একটু বুঝিয়ে বলা যাক। শুধু মাত্র অনুর কাঠামোগত পার্থক্য হবার কারণেই কয়লা এত সস্তা আর হীরক এত দামী। দুটি জিনিসের মূল উপাদান হল কার্বণ। শুধু মাত্র অনুর গঠনের পার্থক্যের কারণে হীরক পৃথিবীর সবথেকে শক্ত দ্রব্য আর কয়লা কিংবা পেন্সিলের শীষ নরম।

প্রথম অনু দিয়ে কাঠামো গঠনঃ Nature (1990)344, 524-526.


কিন্তু নানোটেকনলজির কল্যানে যদি আমরা ইচ্ছেমত এই অনুকে সাজাতে পারি, তাহলে চিন্তা করে দেখুন ব্যাপারটা। আমরা ইচ্ছেমত যা ইচ্ছে তাই তৈরী করতে পারব।

এছাড়া ১৯৯৯ সনে Cornell বিশ্ববিদ্যালয়ের Wilson Ho এবং তার ছাত্র Hyojune Lee অনুকে জোড়া লাগানোর প্রক্রিয়া প্রদর্শন করেন। এতদিন পর্যন্ত অনু-পরমানুর সংযোগ শুধু মাত্র রাসয়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমেই সংগঠিত হত। কিন্তু নানোটেকনলজির মাধ্যমে অনু-পরমানুক ভেঙে কিংবা জোড়া লাগিয়ে অনেক কিছুই করা সম্ভবনার দ্বার খুলে দিল।


নানোটেকনলজির বিজনেস বর্ধিত হচ্ছেঃ

নানোটেকনলজির কারণে অনেক অনেক নতুন নতুন টেকনলজির উদ্ভব হচ্ছে। নতুন নতুন দ্রব্য এর সূচনা করছে এবং সেই সাথে ব্যাবসায়িক সুযোগের দ্বার উন্মোচন করছে। আশা করা হচ্ছে যে আমেরিকাতে ২০১০ সনের আগে নানোটেকনলজি সম্পর্কিত দ্রব্য এর বাজার ১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌছবে এবং ৮লক্ষ নতুন চাকরির সুযোগ করে দিবে। নানোটেকনলজির গুরুত্বের কথা চিন্তা করে আমেরিকার সরকার বর্তমানে নানোটেকনলজি সংক্রান্ত গবেষনাতে ২০০০ সনে ৪২২ মিলিয়ন ডলার এবং ২০০৩ সনে ৭১০ মিলিয়ন ডলার ব্যবহৃত হয়েছিল। শুধু সরকারই নয়, পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও নানোটেকনলজি গবেষনায় অর্থ সরবরাহ করছে। তার কারন হল, নানোটেকনলজি আমাদের এক নতুন দুয়ার এর উন্মোচন করতে যাচ্ছে। যদিও নানোটেকনলজি খুব ক্ষুদ্র টেকনলজি সংক্রান্ত জিনিসগুলি নিয়ে কাজ করে যার ব্যাস একটি চুলের ব্যাসের ৮০ হাজার ভাগের এক ভাগ, কিন্তু এর ক্ষেত্র দিন দিন আরো বর্ধিত হচ্ছে।
১৯৯৬ সনের নোবেল পুরষ্কারে সম্মানিত Richard Smalley বলেছেন, “The impact of nanotechnology on the health, wealth and lives of people will be at least the equivalent of the combined influences of microelectronics, medical imaging, computer-aided engineering and man-made polymers in the twentieth centure.”

Nanoscience is the study of phenomena and manipulation of materials at atomic, molecular and
macromolecular scales, where properties differ significantly from those at a larger scale.

Nanotechnologies are the design, characterisation, production and application of structures, devices and systems by controlling shape and size at nanometer scale.



নানোটেকনলজি সম্পর্কিত বইঃ
1. The next big thing is really small by Jack Uldrich with Deb Newberry. Publisher: Crown Business, ISBN: 1-4000-4917-2
2. http://www.nanotec.org.uk/
নানোটেকনলজি এর শুরুর কথা
একুশ শতাব্দিতে এসে আইটি নিয়ে কথা যতটা শোনা গেছে, ততটাই শোনা গেছে এই নানোটেকনলজি। জাপান এর জাতীয় গবেষনা বাজেটের সিংহভাগই ব্যবহৃত হচ্ছে নানোটেকলজি সংক্রান্ত বিষয়গুলিই উপর। শুধু মাত্র জাপানই নয় ইউরোপ, আমেরিকা, চিন, কোরিয়া সবগুলি দেশই উঠেপড়ে লেগেছে এই সংক্রান্ত গবেষনা নিয়ে। কেন? তারা এই বিষয়ে সবথেকে অগ্রগামী হতে চাই। এই বিষয়ে লিডার হতে চাই। আমেরিকা আইটি তে এগিয়ে থাকলেও নানোটেকনলজিতে অন্যান্য দেশগুলি পিছিয়ে থাকতে চায় না। তাই ভিষণ প্রতিযোগীতা চলছে দেশে বিদেশে। কেন নানোটেকনলজি নিয়ে সবার এত আগ্রহ? তার একটা সহজ উত্তর হল, সামনের দিন হবে নানোটেকনলজির যুদ। আপনার হৃদরোগ হয়েছে? নানো রবোট আপনার শরীরের ভিতরে ঢুকে সেই সব মেরামত করে দিবে। আপনার হাতের ঘড়িটি হয়ে যাবে আপনার কম্পিউটার আপনার মোবাইল, সব কিছুই। তা সম্ভব হবে নানোটেকনলজির বদৌলতে।
নানো টেকনলজি কি?
নানো একটি মাপার একক। ম্যাট্রিক একক এর শুরুটা হয়েছিল ১৭৯০ সনে ফ্রান্সে। ফ্রান্স জাতীয় পরিষদ এককগুলিকে সাধারণ করবার জন্য কমিটি গঠন করে এবং তারাই প্রথম ডেসিমাল কিংবা দশ একক এর ম্যাট্রিক পদ্ধতির প্রস্তাব করেন। এবং দৈর্ঘের একক এক মিটার এর সূচনা করেন। তারা পৃথিবীর পরিধির ৪০,০০০,০০০ ভাগের এক ভাগকে এক মিটার বলেন। মিটার শব্দটি গ্রীক শব্দ metron থেকে এসেছে যার অর্থ হল, পরিমাপ। এছাড়া মিটার এর ১০০ ভাগের এক ভাগকে সেন্টিমিটার বলা হয়। ১৭৯৩ সনে ফ্রান্সে আইন করে তা প্রচলন করা হয়। ১৯৬০ সনে এই মিটার এর সংজ্ঞা পরিবর্তন করা হয়। ক্রিপটন ৮৬ এর কমলারঙের রেডিয়েশন এর তরঙ্গদৈর্ঘের ১,৬৫০,৭৬৩.৭৩ ভাগের এক ভাগকে মিটার বলা হয়। ১৯৮৩ সনে মিটার এর সংজ্ঞা পুনরায় পরিবর্তিত করা হয়, বর্তমান সংজ্ঞা অনুযায়ী, বায়ুশুন্যে আলোর গতির ২৯৯,৭৯২,৪৫৮ ভাগের এক ভাগকে মিটার বলা হয়। এই মিটার এর ১,০০০,০০০,০০০ (১০০ কোটি) ভাগের এক ভাগকে নানোমিটার বলা হয়। নানো শব্দটি গ্রীক nanos শব্দ থেকে এসেছে যার অভিধানিক অর্থ হল dwarft কিন্তু এটি মাপের একক হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। আর এই নানোমিটার স্কেলে যে সমস্ত টেকনলজি গুলি সর্ম্পকিত সেগুলিকেই বলে নানোটেকনলজি।
মিটার এককটি আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সাথে জড়িত। বাড়িঘর আসবাবপত্র সবই আমরা মাপি এই মিটার এককে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগ পর্যন্ত মিলিমটার স্কেলে যন্ত্রপাতির সূক্ষতা মাপা হত। মিলিমিটার এর ছোট কোন কিছু নিয়ে চিন্তা ভাবনার অবকাশ ছিলনা। কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হবার পরে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে এক নতুন যুগের সূচনা হল। সেমিকন্ডাকটর তার পথযাত্রা শুরু করল। আর এর শুরুটা হল, ট্রানজিস্টর আবিষ্কার দিয়ে। তখন মাইক্রোমিটার একক দিয়ে আমাদের চিন্তভাবনা শুরু হল। বলা যায় যাত্রা শুরু হল, মাইক্রোটেকনলজির।
এর পরে টেকনলজি এগুতে লাগলো প্রচন্ড গতিতে। ভাগ্যো জিনিসপত্র, যার মধ্যে টেলিভিশন, রেডিও, ফ্রিজ ইত্যাদি ইত্যাদি। আর তা কিভাবে আরো ছোট করা যায় তা নিয়েই প্রচন্ত যুদ্ধ শুরু হয়ে গেল। কোন কম্পানি কত ছোট আকারের এই সমস্ত ভোগ্য জিনিস আমাদের কাছে পৌছাতে পারবে, তার প্রতিযোগীতা শুরু হল। আর এই সমস্ত ব্যাপারটা সম্ভব হল, সেমিকন্ডাকর সংক্রান্ত প্রযুক্তির কল্যাণে। প্রথম দিকের রোডিও কিংবা টিভির আকার দেখলে আমাদের এখন হাসি পাবে। এত বড় বড় জিনিস মানুষ ব্যাবহার করত কিভাবে? সেই প্রশ্নটি হয়তো এসে দাড়াবে। কিন্তু এখন বাজারে দেয়ালে ঝুলাবার জন্য ক্যালেন্ডারের মত পাতলা টিভি এসেছে। সামনে হয়তো আরো ছোট আসবে।
১৯৮০ সনে IBM এর গবেষকরা প্রথম আবিষ্কার করেন STM(Scanning Tunneling Microscope) এই যন্ত্রটি দিয়ে অনুর গঠন পর্য়ন্ত দেখা সম্ভব। এই যন্ত্রটির আবিষ্কারই নানোটেকনলজিকে বাস্তবে রুপ দিতে সক্ষম হয়েছে। কিভাবে কাজ করে এই STM। এই যন্ত্রে খুব সূক্ষ পিনের মত সুচাল টিপ আছে এবং তা যখন কোন পরিবাহী বস্তুর খুব কাছে নিয়ে যাওয়া হয়, তখন তা থেকে টানেলিং নামে খুব অল্প পরিমানে বিদ্যুত পরিবাহিত হয়। এবং এই বিদ্যুত এর পরিমান দিয়েই সেই বস্তুটির বাহিরের স্তরের অনুর চিত্র তৈরী করা হয়। তবে এই STM এর ক্ষেত্রে যা দেখতে চাইবো তাকে অবশ্যই বিদ্যুত পরিবাহী হতে হবে। কিন্তু বিদ্যুত অপরিবহীর অনুর গঠন কিভাবে দেখা যাবে? না মানুষ বসে থাকেনি। অসম্ভবকে সম্ভব করেই মানুষ যেভাবে এতদূর এসেছে, তেমনি ভাবে এই অসম্ভবকে সম্ভব করা গেল AFM দিয়ে। STM এর ক্ষেত্রে টানেলিং বিদ্যুত দিয়ে কাজ করা হয় এবং AFM দিয়ে সুক্ষ পিন দিয়ে অনুর গঠন দেখা সম্ভব।
টপটুডউন ও ডাউনটুটপ:
নানোটেকনলজির ক্ষেত্র দুটি পক্রিয়া আছ। একটি হল উপর থেক নীচে (Top to Bottom)ও অপরটি হল নীচ থেক উপর (Bottom to top)। টপডাউন পদ্ধতিতে কোন জিনিসকে কেটে ছোট করে তাকে নির্দিস্ট আকার দেয়া হয়। এই ক্ষেত্র সাধারণত Etching প্রক্রিয়াটি সর্ম্পকিত। আর ডাউনটুটপ হল ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আকারের ছোট জিনিস দিয়ে বড় কোন জিনিস তৈরী করা। আমাদেরর বর্তমান ইলেক্ট্রনিক্স হল, টপডাউন প্রযুক্তি। আর নানোটেকনলজি হল, বটমটপ প্রযুক্তি। নানোমিটার স্কেলে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বস্তুর উপাদান দিয়ে তৈরী করা হবে এই নানোপ্রযুক্তিতে। সহজে বুঝবার জন্য একটা উদাহরণ দেয়া যাক। মনে করুন, আপনার একটা বিশেষ ধরনের DNA এর প্রয়োজন। সুতরাং বটমটপ প্রযুক্তিতে, সেই DNA এর ছোট ছোট উপাদান গুলিকে মিশ্রন করে সেই কাঙ্খিত DNA টি তৈরী করা হবে। তবে নানোপ্রযুক্তিতে শুধু মাত্র বটমটুটপ প্রযুক্তিই নয়, বরং টপটুবটম প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই দুটির সংমিশ্রন করা হবে।
আমরা যারা কম্পিউটার ব্যবহার করছি তারা জানি যে, প্রতি বছরই কম্পিউটার এর মূল্য কমছে। প্রতিবছরই আগের তুলনায় সস্তায় আরো ভাল কার্যক্ষমতার কম্পিউটার পাওয়া যাচ্ছে। আসলে এই কম্পিউটার এর সাথেও নানোটেকনলজি সম্পর্কিত রয়েছে। কম্পিউটার এর ভিতর যে প্রসেসর আছে, আপনারা প্রায় সবাই ইন্টেল প্রসেসর এর নাম শুনে থাকবেন? এই প্রসেসর এর ভিতরে রয়েছে অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নানোমিটার স্কেলের সার্কিট। আর তাতে ব্যবহৃত হচ্ছে নানোটেকনলজি। ইন্টের প্রসেসরে, সিলিকন এর উপর প্যাটার্ণ করে সার্কিট বানান হয় তার বর্তমান সাইজ হল ১০০ নানোমিটার। সামনের তিন বছরে এর আকার হবে ৭০ নানোমিটার। এবং সাতবছরে এর আকার হবে ৫০ নানোমিটার। ইন্টেল আশা করছে যে ২০১০ সনে তারা ৩০ নানোমিটার সাইজে নিয়ে আনতে পারবে। আর আজকের থেকে তখন এই প্রসেসর এর আকার অর্ধেক হয়ে আসবে। সেই দিনটা খুব বেশী দূরে নয় যেদিন আপনার মোবাইলটি কাজ করবে কম্পিউটারের মত। (বর্তমানেই এই ধরনের কিছু মোবাইল বাজারে এসেছে)। এছাড়া রয়েছে কম্পিউটারের হার্ডডিস্ক। এই হার্ডডিস্কের তথ্য সংরক্ষনের ক্ষমতা দিন দিন বড়ছে। এই হার্ডডিস্কেও ব্যবহৃত হচ্ছে নানোটেকনলজি। এখন বাজারে ৩০০ গিগাবইটেরর হার্ডডিস্ক পাওয়া যাচ্ছে। আথচ এই ব্যাপারটা আজ হতে ১০ বছর আগও ছিল কল্পনার বাহিরে।
স্থির বিদ্যুত ভুত
নানোটেকনলজি দিয়ে সার্কিট বানান যতটা সোজা বলে মনা করা হয়, ব্যাপারটা ততটা সোজা নয়। সেইখানে প্রধান যে বাধা এসে দাড়াবে তা হল, স্থির বিদ্যুত। শীতের দিনে বাহির থেক এসে দরজার নবে হাত দিয়েছেন? এমনি সময় হাতে শক লাগে। কিংবা অন্ধকারে সুয়েটার খুলতে গেছেন এমনি সময় বিদ্যুত এর মত কনা সুয়েটারে দেখা গেল। এইগুলি সবই আমাদের প্রাত্যাহিক দিনে ঘটে, আর এইগুলিই হল স্থির বিদ্যুতের কারসাজি। সাধারণ ইলেক্ট্রিক সার্কিটের মধ্যে এই স্থির বিদ্যুত থেকে সার্কিটটিকে রক্ষা করার ব্যবস্থা থাকে। যদি তা না করা হত, তাহলে কোন একটা কারণে স্থির বিদ্যুত আপনার বৈদুতিক সারঞ্জামকে নষ্ট করে দিত। কিন্তু নানোটেকনলজির ক্ষেতে বৈদ্যুতিক সার্কিট কল্পনাতিত ছোট হয়ে যায় বর গতানুগতিক পদ্ধতিতে রক্ষা করা সম্ভব নয়। কিভাবে নানোস্কেলেও এই সার্কিটগুলিকে রক্ষা করা যায় তা নিয়ে বিজ্ঞানীরা গবেষনা করছেন। স্থির বিদ্যুত সার্কিটে কিরকম ক্ষতি করতে পারে? প্রকৃতপক্ষে ছোটসার্কিটে স্থিরবিদ্যুত প্রায় ১৫০০ ডিগ্রী সেন্টিগ্রড এর মত তাপ সৃষ্টি করে। এই তাপে সার্কিট এর উপকরণ গলে, সেই সার্কিটটিকে নষ্ট করে দিতে পারে। এই কারণে ১৯৯৭ এর পরে IC সার্কিটে গতানুগতিক ভাবে ব্যবহৃত এলুমিনিয়ামের পরিবর্তে তামা ব্যবহৃত হয়। কেননা তামার গলনাঙ্ক ১০৮৩ যেখানে এলুমিনিয়ামের গলনাঙ্ক ৬৬০ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড। ফলে অধিক তাপমাত্রাতেও তামা এলুমিনিয়ামের তুলনায় ভাল কাজ করবে। একদম শুরুর কথাঃ ১৯৮৯ সনের নভেম্বরের ৯ তারিখ খুব সম্ভবত নানোটেকনলজির জন্য একটা অন্যতম স্মরণীয় দিন হিসবে বিবেচিত হবে। এই দিনে ক্যালিফোর্নিয়ার IBM এর Almaden Research Center এ Don Eigler এবং Erhard Schweizer ৩৫ টি Xenon অনু দিয়ে IBM এর লগোটি তৈরী করেছিলেন। সেইদিনই প্রথম অনুকে ইচ্ছেমত সাজিয়ে পছন্দমত কিছু তৈরী করা সম্ভব হয় মানুষের পক্ষে। তাই দিনটি হয়তো আজ হতে অনেক বছর পরে নানোটেকনলজির ক্ষেত্রে প্রথম মাইল ফলক হিসাবে পরিগনিত হবে। এইদিনই প্রথম মানুষ প্রকৃতির সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি অনুর কাঠামোকে ভাঙতে সক্ষম হয়েছিল। অনুর গঠনকে ইচ্ছেমত তৈরী করে অনেক কিছু করা সম্ভব। এক বিশাল সম্ভাবনার দ্বার মানুষের সামনে উন্মোচিত হল। ব্যাপারটা একটু বুঝিয়ে বলা যাক। শুধু মাত্র অনুর কাঠামোগত পার্থক্য হবার কারণেই কয়লা এত সস্তা আর হীরক এত দামী। দুটি জিনিসের মূল উপাদান হল কার্বণ। শুধু মাত্র অনুর গঠনের পার্থক্যের কারণে হীরক পৃথিবীর সবথেকে শক্ত দ্রব্য আর কয়লা কিংবা পেন্সিলের শীষ নরম। প্রথম অনু দিয়ে কাঠামো গঠনঃ Nature (1990)344, 524-526. কিন্তু নানোটেকনলজির কল্যানে যদি আমরা ইচ্ছেমত এই অনুকে সাজাতে পারি, তাহলে চিন্তা করে দেখুন ব্যাপারটা। আমরা ইচ্ছেমত যা ইচ্ছে তাই তৈরী করতে পারব। এছাড়া ১৯৯৯ সনে Cornell বিশ্ববিদ্যালয়ের Wilson Ho এবং তার ছাত্র Hyojune Lee অনুকে জোড়া লাগানোর প্রক্রিয়া প্রদর্শন করেন। এতদিন পর্যন্ত অনু-পরমানুর সংযোগ শুধু মাত্র রাসয়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমেই সংগঠিত হত। কিন্তু নানোটেকনলজির মাধ্যমে অনু-পরমানুক ভেঙে কিংবা জোড়া লাগিয়ে অনেক কিছুই করা সম্ভবনার দ্বার খুলে দিল। নানোটেকনলজির বিজনেস বর্ধিত হচ্ছেঃ নানোটেকনলজির কারণে অনেক অনেক নতুন নতুন টেকনলজির উদ্ভব হচ্ছে। নতুন নতুন দ্রব্য এর সূচনা করছে এবং সেই সাথে ব্যাবসায়িক সুযোগের দ্বার উন্মোচন করছে। আশা করা হচ্ছে যে আমেরিকাতে ২০১০ সনের আগে নানোটেকনলজি সম্পর্কিত দ্রব্য এর বাজার ১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌছবে এবং ৮লক্ষ নতুন চাকরির সুযোগ করে দিবে। নানোটেকনলজির গুরুত্বের কথা চিন্তা করে আমেরিকার সরকার বর্তমানে নানোটেকনলজি সংক্রান্ত গবেষনাতে ২০০০ সনে ৪২২ মিলিয়ন ডলার এবং ২০০৩ সনে ৭১০ মিলিয়ন ডলার ব্যবহৃত হয়েছিল। শুধু সরকারই নয়, পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও নানোটেকনলজি গবেষনায় অর্থ সরবরাহ করছে। তার কারন হল, নানোটেকনলজি আমাদের এক নতুন দুয়ার এর উন্মোচন করতে যাচ্ছে। যদিও নানোটেকনলজি খুব ক্ষুদ্র টেকনলজি সংক্রান্ত জিনিসগুলি নিয়ে কাজ করে যার ব্যাস একটি চুলের ব্যাসের ৮০ হাজার ভাগের এক ভাগ, কিন্তু এর ক্ষেত্র দিন দিন আরো বর্ধিত হচ্ছে। ১৯৯৬ সনের নোবেল পুরষ্কারে সম্মানিত Richard Smalley বলেছেন, “The impact of nanotechnology on the health, wealth and lives of people will be at least the equivalent of the combined influences of microelectronics, medical imaging, computer-aided engineering and man-made polymers in the twentieth centure.” Nanoscience is the study of phenomena and manipulation of materials at atomic, molecular and macromolecular scales, where properties differ significantly from those at a larger scale. Nanotechnologies are the design, characterisation, production and application of structures, devices and systems by controlling shape and size at nanometer scale. নানোটেকনলজি সম্পর্কিত বইঃ 1. The next big thing is really small by Jack Uldrich with Deb Newberry. Publisher: Crown Business, ISBN: 1-4000-4917-2 2. http://www.nanotec.org.uk/

UFO


অশনাক্ত উড়ন্ত বস্তু বা অউব, (ইংরেজিতে: Unidentified Flying Object অথবা UFO), এটা এমন একটি উরন্ত বস্তু যা তার প্রতক্ষ্যদর্শী দ্বারা এবং তদন্ত করার পরেও সনাক্ত করা যায় না। সহজ ভাষায় আকাশে দৃশ্যমান যে কোন অচেনা অজানা বস্তু বা আলোকেই অউব বলা হয়। এই সংজ্ঞা অনুসারে, একে একটি অউব বিমান হিসেবে শ্রেণীভুক্ত করা যায়, যে এইটি এর পরিচয় দেওয়ার পূর্বেই বিমান নিয়ন্ত্রণকারী রাডার গুলোতে হঠাৎ আবির্ভূত হতে দেখতে পাওয়া যায়। যাইহক, সাধারণ ভাষায় এবং কল্পনায় অসনাক্ত উড়ন্ত বস্তু বলতে বুঝায় ভিন্ন গ্রহ হতে আগত বুদ্ধিমান জীব। উড়ন্ত পিরিচ বা প্লেট হিসেবেও ১৯৪০ - ১৯৯০ এই বিষয়টা খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠে ছিল। কারণ যে সব অসনাক্ত উড়ন্ত বস্তু আকাশে দেখতে পাওয়া যেত তার বেশীর ভাগ উড়ন্ত বস্তুগুলো পিরিচ বা প্লেটের আকৃতির হয়ে থাকতো। যারা অশনাক্ত উড়ন্ত বস্তু্র বিষয় নিয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণা করে তাদেরকে উফোলোজিট বলে।
উফোলোজিস্টদের মতে, অউব বলতে আকাশ বা মহাশূন্যের পর্যবেক্ষকরা যে সব অপ্রাকৃতিক বা অজানা বস্তু দেখা পায় সে গুলোই হল অউব। এগুলোকে কোন কর্তৃপক্ষ বা বিশ্লেষক কৃত্রিম বস্তু (কৃত্রিম উপগ্রহ, যানবাহন, বেলুন) অথবা প্রাকৃতিক বস্তু (উল্কা, গ্রহ, উল্কা বৃষ্টি, প্রাকৃতিক কারণ) হিসাবে চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছিল। আর যে অসনাক্ত উড়ন্ত বস্তু বা অউব গুলো সমুদ্র পৃষ্টের উপর দেখতে পাওয়া যায় তাকে অসনাক্ত ভাসমান বস্তু (অভাব) বা Unidentified Submerged Objects (USO) বলা হয়। যদিও পেছনে এমন বস্তু দেখেছে বলে প্রমান পাওয়া গিয়েছে। কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পরেই ১৯৪৭ সালের ২৪ জুন অউব জন্ম ধরা হয়। সাধারণত একে বৈজ্ঞানিক বিশ্বে একটি Pseudo-Science এর দ্বারা গণ্য করা হয়। সাম্প্রতিক বছরে, অউবের দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকৃত জাদুঘর বানানো হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরে, অউবের দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকৃত জাদুঘর বানানো হয়েছে। একটি হলো রোসওয়েলের আন্তর্জাতিক অউব জাদুঘর (আমেরিকা) এবং অপরটি হলো এর শাখা ইস্তানবুলে (তুরস্ক)।
•   
ইতিহাস
অব্যাখ্যাত আকাশীক পর্যবেক্ষণ ইতিহাস জুড়ে প্রতিবেদন করা হয়েছে। এদের মধ্যে কিছু ছিল নিঃসন্দেহে প্রাকৃতিক জ্যোর্তিবিদ্যা সংক্রান্ত : ধূমকেতু, উজ্জ্বল উল্কা, একটি বা পাঁচটি গ্রহ যা খালি চোখে দেখা যায়, যুক্ত গ্রহীক, অথবা বায়ুমন্ডলীয় দৃষ্টিবিভ্রন্ত আলোমালা যেমন প্রতিসূর্য (Perihelia) এবং লেন্স অকৃতির মেঘমালা। একটি উদাহরণ যেমন হ্যালির ধূমকেতু, যেটি চীনের জ্যোর্তির্বিজ্ঞানীরা সম্ভবত খ্রীষ্ট্পূর্ব ২৪০ বছর অথবা ৪৬৭ বছর আগে প্রথম রেকর্ড করে ছিল। যাইহক, তাদের প্রকৃত কারণ ইতিহাস জুড়ে অপ্রাকৃতিক, স্বর্গদূত, অথবা অন্যান্য ধর্মীয় পূবাভাস বলে মনে করেছে। মধ্যে যুগে কিছু বস্তু চিত্রাঙ্গন করা হয়েছে যা দেখলে মনে হতে পারে অনুরুপ আকষণীয় UFO । মধ্যে যুগে এবং নবযুগের অভ্যুদয়ে সময় এমন অন্যান্য চিত্রাঙ্গন গুলোকে ইতিহাসবিদরা প্রায়ই ধর্মীয় প্রতিক হিসেবে চিহ্নিত করা করতো। সেন কুও (১০৩১–১০৯৫), চীনেজ সরকারের একজন পন্ডিত ব্যক্তি, বহুবিদ্যাজ্ঞ, আবিস্কারক, তিনি অসনাক্ত উড়ন্ত বস্তুর সম্বন্ধে তার লেখা Dream Pool Essays[১] (১০৮৮) বইতে একটি জীবন্ত অনুচ্ছেদ লিখে ছিলেন। ১১তম শতাব্দীতে আনহুই এবং জিয়াংসু (বিশেষভাবে Yangzhou শহর) নামের দুই জন প্রত্যক্ষদশীর প্রমাণ লিপিবদ্ধ করা হয়েছিল। তারা রাত্রি বেলা একটি দরজা বিশিষ্ট উড়ন্ত বস্তু দেখেছিল যার দরজার অভ্যন্তরীণ থেকে আগতো উজ্জল আলো গাছগুলি থেকে ছায়া দূর করে প্রায় দশ মাইল ব্যাসার্ধ জায়গা জুরে আলোকিত করেছিল এবং প্রচণ্ড গতিতে তার নিজ স্থান থেকে উডায়ন করতে সক্ষম হয়েছিল।
প্রতক্ষ্যদর্শী দ্বারা বর্ণনা
•    ২৪শে সেপ্টেম্বর ১২৩৫, রাতে জাপানে জ়েনেরাল ইয়োরিতসুমে এবং তার সেনাবাহিনী কিয়োটো গোলকের কাছে অস্থির প্রকৃতির আলো দেখতে পান। তার পরামর্শদাতা তাকে "চিন্তা না করার জন্য কারণ এটি বায়ু ছিল মাত্র যা তারকাকে কাপাচ্ছে"।

জার্মানির নুরেম্বেরগ শহর যখন যুদ্ধে ব্যস্ত ছিলো তখন একটি রিপোর্ট লেখা হয়েছিল যে,অনেক নলাকার বস্তসহু েগোলক আকৃতির একটি বস্তু দেখা গেছ। ১৫৬৬ সালে হান্স গ্ল্যাসার এই ঘটনা উডকাটে বিবরণ দেন।
•    ১৪ই এপ্রিল ১৫৬১, জার্মানির নুরেম্বেরগ শহর যখন যুদ্ধে ব্যস্ত ছিলো তখন তারা একটি রিপোর্ট লিখেছিল যে, তারা গোলক আকৃতির একটি বস্তু এবং গোলকের বাইরে অনেক নলাকার বস্তু পেয়েছে।
•    জুলাই ১৮৬৮ তে, চিলিতে যে প্রথম UFO দেখা য়ায, গবেষকদের মতে এটা আধুনিক সভ্যতার প্রমান পত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এইটি কপিয়াপো শহরের El Constituyente সংবাদপত্রে| প্রকাশনা করা হয়েছিল এবং UFO কে অন্য গুলোর মতই দেখা গিয়েছিল (একটি অজানা উদ্বায়ী) এবং কিছু সময় পর একই বছর, একদল "তারকা সারি" অথবা "রেসের গাড়ির" মতো বস্তু আকাশ অতিক্রম করতে দেখা গেল। তার পর হতে UFO গবেষকরা এই ধরনের বিষয় গুলোকে লিপিবদ্ধ করা শুরু করে।
•    ২৫শে জানুয়ারি ১৮৭৮ তে, দৈনিক ডেনসন সংবাদ লিখেছিল যে, স্থানীয় এক কৃষক জন মার্টিন বলেছিল সে একটি বড়, কালো, বৃত্তাকার বেলুন আকৃতি বস্তু উড়তে দেখেছে "চমৎকার গতিতে"। মার্টিন আরও বলেছিল যে মনে হচ্ছিল প্লেট আকৃতির। এই প্রথম বারের মতো UFO কে "প্লেট" সঙ্গে তুলোনা করা হয়।
•    ১২ই আগষ্ট ১৮৮৩, মেক্সিকান অধ্যাপক এবং জ্যোতিবিদ, জসেফ ইয়. বনিল্লা, তিনি বর্ণনা করেছিলেন যে, সে দূরবীক্ষণ দ্বারা পর্যবেক্ষণ করার সময় তার দূরবীক্ষণ এবং সূর্য মাঝে যাপাতেকাস (Zapatecas) এর কাছে দীর্ঘ এবং কিছু সংখ্যক রঙিন মণিরমত বস্তু দেখে পেয়েছেন। উড়ন্ত বস্তু অস্তিত্বের কথা বিজ্ঞানীর দ্বারা তোলা একটি ছবিতে প্রমাণ করেছিল, যেমন অতীতের ছবি গুলোতে উড়ন্ত বস্তু অস্তিত্বের কথা প্রমাণ করেছিল।
•    ২৮শে ফেব্রুয়ারি ১৯০৪, সান ফ্রান্সিসকো হতে ৩০০ মাইল পশ্চিমে তিন আমেরিকান নাবিক Ufo দেখেছে, লে. ফ্রানক স্কলফিল্ড দ্বারা বর্ণনা করা হয়েছে। পরবর্তী কালে তিনি প্রশান্ত মহাসাগরের চিফ কমান্ডার হয়েছেন। স্কলফিল্ড লিখেছেন, গোলাক আকৃতির তিনটি উজ্জল বস্তু মেঘের নিচ দিয়ে যাচ্ছছিলো, পরে গোলাকটি তার পথ পরিবতন করে মেঘের উপর ওঠে, দুই-তিন মিনিট পর পৃথিবী ত্যাগ করে। বড় গোলাকটি প্রায় ছয়টা সূর্যের আকার ছিল।
•    ৩১শে জানুয়ারি ১৯১৬ তে, একজন যুক্তরাজ্য বিমানচালক রিপোর্ট করেছিল যে, রোচফোড এর কাছে এক সারি আলো দেখতে পেয়েছে, যেন একটি জানালা রেলপথকে আলোকিত করেছে, পরে আলোটি আরো উজ্জল হয় এবং নাই হয়ে য়ায।
•    জানুয়ারি ১৯২৬ তে, একটি বিমানচালক প্রতিবেদন করেছিল যে, সে ছয়টি "ম্যানহোলের ঢাকনা উড়চ্ছে" উইচিতা, কানসাস এবং কোলোরাড স্প্রিংস শহরের মাঝে উড়তে দেখছে। একই বছর সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে, একটি বড়, উড়ন্ত পাখাহীন নলাওলা মত বস্তু একজন বিমানবাহিত ডাক পাইলটকে অবতরণ করতে বাধ্য করা হয়েছিল নেভাডাতে।
•    ৫ই অগাষ্ট ১৯২৬, তিব্বতের কোকোনর অঞ্চলের হুম্বলডত (Humboldt) পর্বতমালা ভ্রমণের সময়, নিকোলাস রএরীচ প্রতিবেদন করেছিল যে, তার ভ্রমণের সাথীরা "কিছু একটা বড়, সচ্ছ এবং সূর্যের আলো প্রতিফলন করে, একটা বড় ডিম্বাকারের মত যা নড়াচরা করছে প্রচণ্ড গতিতে। আমাদের শিবির অতিক্রম করে জিনিষটা দিক পরিবর্তন করছিল দক্ষিণ থেকে দক্ষিণপশ্চিমে দিকে এবং আমারা দেখেছিলাম গাড় নীল আকাশে হারিয়ে যেতে। এমনকি আমাদের সময়ও ছিল আমাদের মাঠ চশমা নেওয়ার জন্য এবং আমি দেখেছিলাম যথেষ্ট দূরে, উপরিভাগ উজ্জল ডিম্বাকার আকৃতি, তার একপাশে সূর্যের মত উজ্জল।" নিকোলাসের অন্য একটি বর্ণনায় ছিল, ".......... একটি দেহ উজ্জল দক্ষিণ থেকে উত্তরে উড়ছিলো। এইটি একটি বিশাল আকৃতির। এক পাশ সূর্যের নিচে উজ্জল হয় এবং ডিম্বাকার আকৃতির। তারপর এইটি দিক পরিবর্তন করে এবং দক্ষিণপশ্চিমে হারিয়ে যায়।"
•    দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় প্রশান্ত এবং ইউরোপীয় থিয়েটারগুলোতে, "ফো-ফাইটারস" (ধাতব গোলক, আলোর বল এবং অন্যান্য আকৃতির জিনিস যা বিমানকে অনুসরণ করেছিল) প্রতিবেদন করা হয়েছিল এবং বিমানচালক ও তাদের অনুসারিদের দ্বারা ছবি তোলা হয়েছে।
•    ২৫শে ফেব্রুয়ারি ১৯৪২, আমেরিকার সৈন্যবাহিনী পর্যবেক্ষণের প্রতিবেদন করেছিল, লস অ্যাঞ্জেলেস, ক্যালিফোর্নিয়া অঞ্চলের ওপর অসনাক্ত বিমান দৃশ্যমান হয়েছে এবং রাডারে ধরা পড়েছে। জাপানি বিমান মনে করে তারা এন্টিএয়ারক্রপ্ট মিসাইল নিক্ষেপণ করে। পরিষ্কার ব্যাখ্যা না দেওয়ায়, কিছু কর্মকর্তা নাকোচ দিয়েছে বিমানের প্রতিবেদনটি। তারা ওই সময় ক্যালিফোর্নিয়াতে জাপানী বিমান আক্রমণের বিষয় নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিল। যাইহক, সৈন্যবাহিনী প্রধান জেন.জর্জ সি. মার্শালএবং যুদ্ধের সচিব হেনরি স্টিমসন মনে করেন যে, জাপান এই অসনাক্ত বিমানের ব্যাপারের সাথে জরিত। এই ঘটনার পরবর্তী কালে, এটা লস অ্যাঞ্জেলিসের যুদ্ধ হিসেবে পরিচিত হয়েছিল, অথবা প্রাশ্চাত্ত্য দেশের উপকূলীয় বিমান আক্রমণ।
•    ১৯৪৬ সালে, ২০০০ এরও বেশী রিপোর্ট করা হয়েছে। এগুলোর বেশীর ভাগ সুইডীস সৈন্যবাহিনী থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। স্ক্যাডিনাভানীতে অসনাক্ত আকাশীক বস্তু দেখা গিয়েছে, কেবল ফ্রান্স, পর্তুগাল, গ্রিস, এবং ইতালি রিপোর্ট আলাদা করে রাখা হয়েছে। এগুলোকে তারা প্রথমে "রাশিয়ান হেল" এবং পরবর্তী কালে "ভূত রকেট" হিসেবে উল্লেখ করেছিল। কারণ তারা চিন্তা করেছিল যে, এগুলো সম্ভবত জার্মানীর V1 অথবা V2 রকেট ধার রাশিয়ান রহস্যময় টেষ্টের বস্তু। যদিও অনেকেই ভেবেছিল এটা হবে উল্কার মত প্রাকৃতিক ঘটনা। রাডারের মাধ্যমে ২০০ টির ওপর ধরা পড়েছে এবং সুইডীস সৈন্যবাহিনী দ্বারা "প্রকৃত ভৌত বস্তু" হিসাবে গণ্য করেছিল। ১৯৪৮ সালে, একটি top secret ফাইলে সুইডীস সৈন্যবাহিনী ইউরোপের আমেরিকান সৈন্যবাহিনীকে বলেছে যে, "তাদের তদন্তকারী ভিন্ন গ্রহের জীব বলে বিশ্বাস করেছিল।"
প্রথম আধুনিক প্রতিবেদন
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকে থেকে UFO দেখা শুরু হয়েছিল, একজন বিখ্যাত মার্কিন ব্যবসায়ী ক্যননেথ আরনোড এর মধ্যে ২৪শে জুন ১৯৪৭ থেকে, যখন তার ব্যক্তিগত প্লেন ওয়াশিংটন এর রাইনার পর্বতমালা কাছে দিয়ে উড়ছিল। সে বলেছিলেন, নয়টা অতি উজ্জ্বল বস্তু রাইনারের দিকে মুখ করে উল্ট পাশে উড়ছিল। যদিও অনুরুপ বস্তু ১৯৪৭ সালে আমেরিকাতে আরো দেখা গিয়েছিল।
আরনোডর এই বিষয়টিতে প্রথম মিডিয়া মনোযোগ গ্রহণ এবং জনগণের দৃষ্টি আর্কষন করেছিল। আরনোড বর্ণনা করেছিল যা দেখেছিল "একটি পিঠার মত চ্যাপ্টা", "প্লিচের মত অকৃতির এবং এতো পাতলা ছিল যে ঠিকমত দেখা যাচ্ছিল না", "অর্ধেক চাঁদ অকৃতি, পিছের দিক চ্যাপ্টা ডিম্বাকার এবং সামনের দিক উত্তল। ..... মনে হচ্ছিল একটা বড় ফ্লাট ডিস্ক এবং এমন ভাবে উড়েছে যেন একটা চারা পানির উপর লাফাচ্ছে।" অল্প দিনের মধ্যে আরনোডের উড়ন্ত বস্তু বা উড়ন্ত প্লিচের বিষয়টি অনেক দূর পর্যন্ত চলে গিয়েছিল। আরনোডের দেখা অনুসরণ করে, অন্যানরাও দেখেছে বলে কয়েক সপ্তাহ শতশত রিপোর্ট করেছিল, বেশীর ভাগ আমেরিকাতে। কিন্তু অন্যান্য দেশসমূহেতে দেখেছিল বলে রিপোর্ট করেছিল।এ ধরনের অন্যান বিষয়ে রিপোর্টের সংখ্যা বৃদ্ধি হতে শুরু করেছিল। যেমন, ৪ঠা জুলাই, সন্ধ্যাবেলা যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিমান দল ইদাহোর উপর নয়টাও বেশি একই রকম ডিস্ক দেখেছিল।
আমেরিকান UFO গবেষক টেড ব্লোচার, তার সংবাদপত্র প্রতিবেদনে ব্যাপক পর্যালোচনা করেন (আরনোডর বর্ণনাসহ), সে ৬-৮ জুলাই সাথে ৪ঠা জুলাই, এর বিষয়ের উপর হঠাৎ অপ্রত্যশিত বৃদ্ধি খুজে পেয়েছিল। ব্লোচার লক্ষ্য করেছিল যে, পরবর্তী কয়েক দিন সর্বাপেক্ষা মার্কিন সংবাদপত্রের প্রথম পাতায় "উড়ন্ত প্লিচ" অথবা "উড়ন্ত ডিস্ক" এর ঘটনা ভরা ছিল। ৮ই জুলাই, এরপর যখন কর্মকর্তা রোসওয়েলের UFO এর ঘটনাটি সাংবাদিকদের কাছে প্রকাশ করতে শুরু করেছিল, তারা একে একটি পরীহ্মার বস্তুর ধ্বংসাবশেষ হিসাবে ব্যাখ্যা করেছিল।
মধ্যযূগ এবং নবযুগের অভ্যুদয়
এইটি সম্ভব যে UFO ভৌতিক দৃশ্য শিল্পের কাজে দেখা গিয়েছে, কিন্তু বেশির ভাগ অংশ নির্দিষ্ট, এর একটি সহজ ব্যাখ্যা ইতিহাসবিদরা দিয়েছে। সুতরাং:
•    কসভোর ডেটজানি সন্ন্যাসীদের মঠের প্রাচীন চিত্রের নভোচারীর প্রতীক হচ্ছে সূর্য এবং চাঁদ যেমন এই সময় বিজানতিনোর ধর্মীয় শিল্পে খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল।
•    UFO টেবিল মাইনারদি (বাচ্চাসহ মাদন্না এবং সান জোভাননিন) জ়ন্ম পূর্ণ স্বর্গের মধ্যে, প্রকৃতপক্ষে সর্বোচ্চ দেবদূত গাবরিএল (জ়িবরাইল (আঃ)) এর প্রতীক।
•    পাওলো উচেল্লো এর টেবিলে মধ্যে যে একটি গোল উড়ন্ত বস্তু প্রকৃতির, এটি মিশরের টেবেইদ এলাকার একটি টুপির প্রতীক।
•    বিখ্যাত খন্ডটি স্মরনীয় করে রাখতে ১৬৮০ সালে ফ্রান্সের আকাশের ওপর দিয়ে একটি UFO যাওয়া চিএ অংকন করে, আসলে এটি একটি খেলার প্রতীক, এটি ভাগ্যর চাকা উপর নকশা করা হয়েছে।
তদন্ত
প্রাচীনকাল হতেই আকাশে অদ্ভুত অদ্ভুত সব বস্তু দেখার খবর শোনা গেলেও ১৯৪৭ সালে যখন আমেরিকাতে প্রথম UFO দেখা যাবার খবর ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়, তারপর থেকে এটিই হয়ে ওঠে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়। এর পর আরো কয়েক হাজার UFO দেখার খবর পাওয়া যায় এবং এর মধ্যে প্রায় শতকরা ৯০ ভাগই মিথ্যা। সাধারণ মানুষ প্রায়ই উজ্জ্বল কোন গ্রহ কিংবা তারা, বিমান, পাখি, বেলুন, ঘুড়ি, ডিম্বাকার আকৃতির মেঘ দেখে তা UFO ভেবে ভুল করেছে। তবে এর জন্য প্রয়োজন সময় সাপেক্ষ তদন্ত। জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকী বিবেচনা করে মার্কিন বিমানবাহিনী ১৯৪৭ সালে UFO তদন্তে নামে। তদন্তের কাজ শেষ হয় ১৯৬৯ সালে। এ সময়ে প্রাপ্ত সর্বমোট ১২,৬১৮ টি ঘটনার মধ্যে ৭০১ টি ঘটনার কোন ব্যাখ্যা তারা দিতে পারে নি। মার্কিন বিমানবাহিনী তাদের তদন্ত শেষ করে এই বলে যে “বিমান বাহিনীর তদন্তে কোন UFO এর প্রতিবেদন করেনি এবং আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ভয়ের কোন ইঙ্গিত দেয়নি।” ১৯৬৯ সালের পর আর কোন মার্কিন সংস্থা UFO তদন্ত কাজে সরাসরি হাত দেয়নি। এরপর ১৯৯৭ সালে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা[২] মার্কিন সামরিক বাহিনীর উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন গোয়েন্দা বিমান ব্যবহারের কথা ফাঁস করে দেয়। ১৯৫০ হতে ১৯৬০ সাল পর্যন্ত যতগুলো UFO দেখা গেছে তার মধ্যে শতকরা ৫০ ভাগ ঘটনার জন্য দায়ী Lockheed U-2A এবং Lockheed SR-71 নামের এই বিমান দুটি। যদিও কোন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি, তারপরও অনেকেই এটিকে ভিন্ন গ্রহের বাসিন্দাদের আকাশযান বলে মনে করেন। আর বিষয়টিকে উড়িয়ে দেবার উপায় নেই। অধিকাংশ বিজ্ঞানীই এই মহাশূণ্যে কোথাও না কোথায় অতিমানবীয় বুদ্ধিমান প্রানীর অস্তিত্ব থাকার সম্ভাবনার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন।


সংগ্রহীত । (অনেক আগে সংগ্রহীত তাই সুত্র দিতে পারলাম নাহ।)

গণবিলুপ্তির দ্বারে মানব সভ্যতা !

হাজার হাজার বছর ধরে চলা প্রজাতি গণবিলুপ্তির ঘটনাকে বিজ্ঞানীরা 'বিগ ফাইভ' নামে অভিহিত করে থাকেন। এর ফলে বিশ্বের ৭৫ শতাংশ প্রজাতি নাকি বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল। বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, তেমনি আরেক গণবিলুপ্তির দ্বারে এখন মানব সভ্যতা। ডয়চেভেলে
পৃথিবীর কোটি কোটি বছরের ইতিহাসে পরিবেশে বড় ধরনের যে পাঁচটি পরিবর্তন এসেছে তার ফলে লাখ লাখ প্রজাতির প্রাণী চিরদিনের জন্য এই ধরণী থেকে মুছে গেছে। বিরাটাকৃতির ডায়নোসর তার মধ্যে অন্যতম যার কথা আমরা সকলেই জানি। বিগত কয়েক দশক ধরে প্রাণী বৈচিত্রের রূপ লক্ষ্য করে বিজ্ঞানীরা এখন আশঙ্কা করছেন যে নতুন আরেক বিলুপ্তির পথে এখন গোটা পৃথিবী। আর এর ফলে আবারও হারিয়ে যাবে হাজার হাজার প্রজাতির প্রাণী। ইতিমধ্যে তার কিছু আলামতও দেখা যাচ্ছে। ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার গবেষকরা স্তন্যপায়ী প্রাণীদের ওপর ভিত্তি করে সমপ্রতি এই আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। এই প্রাণী বিলুপ্তির কারণ হচ্ছে ব্যাপক হারে মানব বসতি, অতিরিক্ত প্রাণী শিকার ও মৎস আহরণ, বিভিন্ন ধরনের জীবাণুর বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বের উষ্ণায়ন বৃদ্ধি। গত পাঁচশ বছরের আগ পর্যন্ত স্তন্যপায়ী প্রাণীর বিলুপ্তি তেমন একটা দেখা যায়নি, কিন্তু আধুনিক সভ্যতার সঙ্গে সঙ্গে এই প্রাণী বিলুপ্তি বেড়ে গেছে আশঙ্কাজনকভাবে। অন্তত ৮০ প্রকার স্তন্যপায়ী প্রাণী ইতিমধ্যে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে বলে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন। যদিও পরিবেশে প্রাণী বিলুপ্তির বিষয়টি এত সহজে ঘটে না কিন্তু যে হারে এই বিলুপ্তি শুরু হয়ে গেছে তা 'বিগ ফাইভে'র মত আরও এক বিলুপ্তিকরণের সূচনা ঘটতে চলেছে। বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, আগামী তিন থেকে ২২ শতকের মধ্যেই এই গণবিলুপ্তির ঘটনা ঘটবে। ভাবছেন, হাতে তো অনেক সময় রয়েছে। তাহলে জেনে রাখুন, সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাণী বিলুপ্তির ঘটনাটি কিভাবে ঘটেছিল। আজ থেকে ৬৫ মিলিয়ন বছর আগে ক্রেটাকেউস যুগের শেষে বিশাল একটি ধূমকেতু কিংবা উল্কা পৃথিবীতে এসে আঘাত হেনেছিল ইউকাটান উপদ্বীপে যেটি আজ মেক্সিকো নামে পরিচিত। গোটা পৃথিবীতে বয়ে গিয়েছিল আগুনের ঝড়, আর তাতে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল বিশালায়তন ডায়নোসর সহ বিশ্বের ৭৬ ভাগ প্রাণী। সুতরাং বিজ্ঞানীরা যে বিগ সিক্স-এর আশঙ্কা করছেন সেটি যদি শুরু হয়ে যায় তাহলে কয়েক শতাব্দী পর হয়তো মানুষ বলেই এই পৃথিবীতে কিছু থাকবে না।

By ঝামেলা ভাইয়া

মানুষ

আজ তুমি হও বাঁধন হারা ,
হও অনাবিল শক্তির অধিকারী ,
দেখিয়ে দও দুনিয়াকে
তুমি পার সবই ।

দেখিয়ে দাও মানবজাতিকে ,
মানব দ্বারা কিছুই নয় অসম্ভব ।
চাইলে মানুষ পারে সবই
প্রমান করে দাও ।

কেন হবে ভিরু ,
কেন পাবে ভয়
যদি থাক সত্যের সাথে
হবে তোমার জয়

শুক্রবারের ভূমিকম্পে পৃথিবীর অক্ষরেখা প্রায় ১০ সে.মি(৪ ইঞ্চি) সরে গেছে।শুক্রবার জাপানে স্থানীয় সময় পৌনে ৩টায় রিখটার স্কেলে ৮.৯ মাত্রার ভূমিকম্প হয়।

এটি ১৪০ বছরের মধ্যে জাপানে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প। এতে দেশটিতে এ পর্যন্ত প্রায় দেড় হাজার মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

ইতালির ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব জিওফিজিক্স অ্যান্ড ভলকানোলজি গতকাল জানায়, ভূমিকম্পে পৃথিবীর অক্ষরেখা প্রায় ১০ সে.মি(৪ ইঞ্চি) সরেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূ-তাত্তি্বক জরিপ বিভাগ জানায়, ওই ভূমিকম্পের কারণে জাপানের উপকূলীয় অঞ্চল প্রায় ৮ ফুট সরে গেছে।

পৃথিবীর অক্ষরেখা সরে যাওয়ায় কয়েক শতক পর একদিনের দৈর্ঘ্য এক সেকেন্ড কমতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন ইউনিভার্সিটি অব টরন্টোর ভূতত্ত্ববিদ্যার অধ্যাপক অ্যান্ড্র মিয়াল  :o । দিনের দৈঘ্র্যে খুব সামান্যই প্রভাব ফেলবে এটা। আর পৃথিবীর অক্ষরেখা যতখানি সরলে ঋতুচক্রে প্রভাব পড়তে পারে এ পরিবর্তন তেমন নয়।

Sutro: CNN

শনিবার, ১২ মার্চ, ২০১১

টান টান উত্তেজনাময় গল্পঃ হিমুর হাতে কয়েকটি নোবেল প্রাইজ


১।
আমি এখন দাড়িয়ে আছি বসুন্ধরা সিটির সামনে।
আজকালকার ঢাকা শহরে বেশ একটা পরিবর্তন এসেছে। আগে রুপবতী তরুনীদের একা একা হাঠতে দেখা যেতো। এখন আর সেটা দেখা যায় না। সব সময় রুপবতীদের সাথে একটা করে চ্যাংড়া ছেলে থাকে।
আমি একটা চ্যাংড়া ছেলে আর একটা রুপবতী মেয়েকে ফলো করছি। এরা মার্কেটের ভিতরে হাত ধরাধরি করে হেটেছে। এখন মার্কেট থেকে বেরিয়ে একটা বাইকে উঠেছে।
বাইক স্টার্ট দেয়ার আগে দেখলাম মেয়েটার হাত ছেলেটার বিশেষ যায়গা ছুয়ে গেলো।
আমার অবাক হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু হলাম না। এটাই প্রকৃতির নিয়ম। প্রকৃতি সবার জ্বিনে লিখে রেখেছে- "তুমি যখন তোমার বয় ফ্রেন্ডের সাথে বাইকে উঠবে তখন আলতো করে তার বিশেষ যায়গায় ছুয়ে দেবে। নিজেদের জন্য এটা করবে না, করবে আমার নিয়ম মানার জন্য। আমি নিয়ম বানিয়ে দিয়েছি। এই নিয়ম তোমাকে মানতেই হবে
এ ব্যাপারে আমার বাবার একটা বানী ছিলো। কিন্তু বানীটা এখন মনে আসছে না। মনে করার চেষ্টা করছিলাম। হঠাৎ পেছন থেকে কে জানি ডাক দিলো-
- এই হিমু!
আমি ঘুরে তাকালাম। চোখ পিট পিট করে চারিদিকে খেয়াল করলাম। দেখলাম পিছনে বোরখা পরে কে জানি দাঁড়িয়ে আছে। নেক-আপ দিয়ে মুখ ঢাকা।
- কিরে! চিনতে পারছিস না? আমি তোর সাহারা খালা। সাহারা খাতুন। এখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হয়েছি। দাড়া। নেক-আপ খুলি। নেক আপ খুললে চিনতে পারবি।
সাহারা খালা নেক-আপ খুলে আমার সামনে দাড়ালেন। আমি আনন্দে একটা চিৎকার দিয়ে উঠলাম।
-
ওয়াও! সাহারা খালা! কি সুইট। কত্তোদিন পরে তোমার সাথে দেখা। আছো কেমন?
- ভালো নাইরে। অনেক সমস্যায় আছি। তোকে আমার সাথে যেতে হবে।
- কোথায়?
- "প্রধানমন্ত্রীর কাছে।"
শুনে আমার চুক্ষু পুরা চড়ক গাছ হয়ে গেলো।
আচ্ছা! চড়ক গাছ দেখতে কি রকম! এটা কি শীতকালীন বৃক্ষ? নাকি গৃষ্মকালীন? এটাতে কি ফুল হয়? হলে সেই ফুলের রঙ কি রকম?
সাহারা খালা হালকা কাশি দিলেন।
-
কিরে! ভ্যাবদা খেলি নাকি?
আমি আবার অবাক হলাম।
আচ্ছা! ভ্যাবদা কি জিনিষ? ভ্যাবদা খেলে কি হয়? এটা খেতে কি রকম? টক? ঝাল? নাকি মিষ্টি?
সাহারা খালা বললেন। -চল আমার সাথে। তোকে প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করিয়ে দেই
আমি বললাম-
তথাস্তু!

২।
প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা হচ্ছে।
-
বুঝলে হিমু! তোমার কথা অনেক শুনেছি। তুমি নাকি যেকোন সমস্যা সমাধান করে দিতে পারো!
আমি মধুর ভঙ্গীতে হাসলাম।
-
তাছাড়া তোমার নাকি সুপার ন্যাচারাল পাওয়ারও আছে
আমি আবার হাসলাম।
- তাহলে শুনো! তোমাকে যে জন্য ডেকেছি! আমি বিরাট ঝামেলায় পড়েছি। আমার ঘরে এত্তো এত্তো পুরষ্কার! এত্তো এত্তো ডক্টরেট সার্টিফিকেট! কিন্তু একটা নুবেলও নাই। এটা কোন ব্যাপার হলো?
আমি চোখে মুখে সিরিয়াস ভাব এনে বললাম
-
অতি খারাপ ব্যাপার। এটা ষড়যন্ত্র। জাতির পিতার স্বপ্নের পরিপন্থি
- এইতো তুমি বুঝেছো! কিন্তু সমস্যাটা হলো কোথাকার কোন ইউনুসের নাকি একটা নুবেল আছে। কি তাজ্জব ব্যাপার! ঐ ইউনুস আবার আমার দলের লোক না!
- "এখন আমার কি করতে হবে প্রধানমন্ত্রী? "
- তোমাকে ঐ ইউনুস ব্যাটাকে বুঝিয়ে শুনিয়ে একটা লাইনে আনতে হবে। আর আমার জন্য একটা নুবেলের ব্যাবস্থা করতে হবে।
আমি তুড়ি মেরে বললাম - তথাস্তু।
- তোমার আর কোন প্রশ্ন আছে হিমু?
- "একটা প্রশ্ন আছে। চড়ক গাছ দেখতে কি রকম! এটা কি শীত কালীন বৃক্ষ? নাকি গৃষ্মকালীন? এটাতে কি ফুল হয়? হলে সেই ফুলের রঙ কি রকম?
প্রধানমন্ত্রী বললেন-
- "এটা কোন ব্যাপারই না। সংসদের আগামী অধিবেশনেই চড়ক গাছ বিষয়ক একটি কমিটি করে দেবো। দিপু মনি ঐটার সভাপতি থাকবে। ঐ প্রকল্পের জন্য আমি ৫০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করবো। তুমি নিশ্চিত থাকো। ডিজিটাল সরকার চড়ক গাছের গোষ্টি উদ্ধার করেই ছাড়বে।"
৩।
আমি আর ডক্টর ইউনুস মুখোমুখি বসে আছি।
- ইউনুস সাহেব! আপনার সামনে মহা বিপদ। আপনার খবর আছে। ইউ হ্যাভ নিউজ ম্যান!
ইউনুস সাহেব মুখ কালো করে বললেন,
-
এখন আমাকে কি করতে হবে?
আমি কানে কানে ইউনুস সাহেবকে কিছু কথা বললাম।
তারপর বললাম-
বাচতে হলে আপনাকে এগুলো করতেই হবে।
ইউনুস সাহেব বিরস বদনে বললেন - তথাস্তু!

৪।
পরদিন পত্রিকায় আসলো-
ইউনুস সাহেব ছাত্রলীগে যোগদান করেছেন। তিনি নাম বদলে নিজের নাম রেখেছেন শেখ ইউনুস এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে ইউনুস বলেন- বংগবন্ধুর আদর্শের সৈনিক হিসেবে তিনি বাকি জীবন কাটিয়ে দিতে চান
আমি পত্রিকা পড়ে একটা তৃপ্তির ঢেকুর তুললাম।
যাক! ইউনুস সাহেব বিপদ থেকে বাচলেন।
৫।
প্রধানমন্ত্রীর সাথে দ্বিতীয় বার সাক্ষাৎ হচ্ছে।
- সাবাশ হিমু। তুমি ইউনুসকে আমাদের দলে ভেড়াতে পেরেছো। তোমাকে জাঝা
আমি লাজুক ভঙ্গিতে হাসলাম।
প্রধানমন্ত্রী বললেন- "এবার তাহলে নোবেল সমস্যার একটা সমাধান করো।"
আমি প্রধানমন্ত্রীর কানে কানে কিছু কথা বললাম। তারপর বললাম এগুলো করতে পারলেই নোবেল সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।
প্রধানমন্ত্রী শুনে দারুন খুশি হলেন।
-
হিমু! ইউ আর এ জিনিয়াস

৬।
পরদিন পত্রিকায় আসলো-
১০০ কোটি টাকা ব্যায়ে বঙ্গবন্ধু নোবেল পুরষ্কার চালু করা হয়েছে। প্রথম বার এই পুরষ্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন জননেত্রী শেখ হাসিনা
আমি আবার তৃপ্তির ঢেকুর তুললাম। যাক জননেত্রীর মান সম্মান রক্ষা হলো। একটা নুবেল অন্তত পাইয়ে দেয়া গেলো।
এবার চড়ক গাছ রহস্যের সমাধানের জন্য অপেক্ষা।

Sutro: Some Where In Blog

শুক্রবার, ১১ মার্চ, ২০১১

One Day Boy And A Girl

Girl) Am I pretty?
(Boy)No
(Girl) Do you want to be with me forever?
(Boy)No
(Girl) Would you cry if I walked away?
(Boy)No
She heard enough and wazs hurt, she walked away tears ran down her face.
The boy grabbed her arm
(Boy) You're not pretty, you're beautiful
(Boy) I dont want to be with you forever, I NEED to be with you forever
(Boy) And I wouldn't cry if you walked away, I would die!
(Boy whispers) Please stay with me
(Girl whispers) Of course

Tonight at midnight your true love will realize they love you. Something good will happen to you between 1-4 p.m. tomorrow- it could be anywhere. Get ready for the biggest shock of your life! If you dont post this to 5 other pages; you will have relationship problems for the next 10 years Sorry

পৃথিবী । কল্পনা করা যায় !

পৃথিবী সূর্য থেকে দূরত্ব অনুযায়ী তৃতীয়, সর্বাপেক্ষা অধিক ঘনত্বযুক্ত এবং সৌরজগতের আটটি গ্রহের মধ্যে পঞ্চম বৃহত্তম গ্রহ। এটি সৌরজগতের চারটি আবাসযোগ্য গ্রহের অন্যতম। পৃথিবীর অপর নাম "বিশ্ব" বা "নীলগ্রহ "। লাতিন ভাষায় এই গ্রহের নাম "টেরা (Terra)।[note ১][note ২]
পৃথিবী হল মানুষ সহ কোটি কোটি প্রজাতির আবাসস্থল হল। পৃথিবীই একমাত্র মহাজাগতিক স্থান যেখানে প্রাণের অস্তিত্বের কথা বিদিত।[১] ৪.৫৪ বিলিয়ন বছর আগে পৃথিবী গঠিত হয়েছিল। এক বিলিয়ন বছরের মধ্যেই পৃথিবীর বুকে প্রাণের আবির্ভাব ঘটে।[২] পৃথিবীর জৈবমণ্ডল এই গ্রহের বায়ুমণ্ডল ও অন্যান্য অজৈবিক অবস্থাগুলিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। এর ফলে একদিকে যেমন বায়ুজীবী জীবজগতের বংশবৃদ্ধি ঘটেছে, অন্যদিকে তেমনি ওজন স্তর গঠিত হয়েছে। পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্রের সঙ্গে একযোগে এই ওজন স্তরই ক্ষতিকর সৌর বিকিরণের গতিরোধ করে গ্রহের বুকে প্রাণের বিকাশ ঘটার পথ প্রশস্ত করে দিয়েছে।[৩] পৃথিবীর প্রাকৃতিক সম্পদ ও এর ভূতাত্ত্বিক ইতিহাস ও কক্ষপথ এই যুগে প্রাণের অস্তিত্ব রক্ষায় সহায়ক হয়েছে। মনে করা হচ্ছে, আরও ৫০ কোটি বছর পৃথিবী প্রাণধারণের সহায়ক অবস্থায় থাকবে।[৪][৫]
পৃথিবীর উপরিতল একাধিক শক্ত স্তরে বিভক্ত। এগুলিকে টেকটনিক প্লেট বলা হয়। কোটি কোটি বছর ধরে এগুলি পৃথিবীর উপরিতলে এসে জমা হয়েছে। পৃথিবীতলের প্রায় ৭১% লবণাক্ত জলের মহাসাগর দ্বারা আবৃত। অবশিষ্টাংশ গঠিত হয়েছে মহাদেশ ও অসংখ্য দ্বীপ নিয়ে। স্থলভাগেও রয়েছে অজস্র হ্রদ ও জলের অন্যান্য উৎস। এগুলি নিয়েই গঠিত হয়েছে বিশ্বের জলভাগ। জীবনধারণের জন্য অত্যাবশ্যকীয় তরল জল এই গ্রহের ভূত্বকের কোথাও সমভার অবস্থায় পাওয়া যায় না।[note ৩] পৃথিবীর মেরুদ্বয় সর্বদা কঠিন বরফ (আন্টর্কটিক বরফের চাদর) বা সামুদ্রিক বরফে (আর্কটিক বরফের টুপি) আবৃত থাকে। পৃথিবীর অভ্যন্তরভাগ সর্বদা ক্রিয়াশীল। এই অংশ গঠিত হয়েছে একটি আপেক্ষিকভাবে শক্ত ম্যান্টেলের মোটা স্তর, একটি তরল বহিঃকেন্দ্র (যা একটি চৌম্বকক্ষেত্র গঠন করে) এবং একটি শক্ত লৌহ অন্তঃকেন্দ্র নিয়ে গঠিত।
মহাবিশ্বের অন্যান্য বস্তুর সঙ্গে পৃথিবীর সম্পর্ক বিদ্যমান। বিশেষ করে সূর্য ও চাঁদের সঙ্গে এই গ্রহের বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। বর্তমানে পৃথিবী নিজ কক্ষপথে মোটামুটি ৩৬৫.২৬ সৌরদিনে বা এক নক্ষত্র বর্ষে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে।[note ৪] পৃথিবী নিজ অক্ষের উপর ২৩.৪ ডিগ্রি কোণে হেলে রয়েছে। এর ফলে এক বিষুবীয় বছর (৩৬৫.২৪ সৌরদিন) সময়কালের মধ্যে এই বিশ্বের বুকে ঋতুপরিবর্তন ঘটে থাকে।[৬] পৃথিবীর একমাত্র বিদিত প্রাকৃতিক উপগ্রহ হল চাঁদ। ৪.৩৫ বিলিয়ন বছর আগে চাঁদ পৃথিবী প্রদক্ষিণ শুরু করেছিল। চাঁদের গতির ফলেই পৃথিবীতে সামুদ্রিক জোয়ারভাঁটা হয় এবং পৃথিবীর কক্ষের ঢাল সুস্থিত থাকে। চাঁদের গতিই ধীরে ধীরে পৃথিবীর গতিকে কমিয়ে আনছে। ৩.৮ বিলিয়ন থেকে ৪.১ বিলিয়ন বছরের মধ্যবর্তী সময়ে পরবর্তী মহাসংঘর্ষের সময় একাধিক গ্রহাণুর সঙ্গে পৃথিবীর সংঘর্ষে গ্রহের উপরিতলের পরিবেশে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন সাধিত হয়েছিল।
গ্রহের খনিজ সম্পদ ও জৈব সম্পদ উভয়ই মানবজাতির জীবনধারণের জন্য অপরিহার্য। এই গ্রহের অধিবাসীরা প্রায় ২০০টি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রে সমগ্র গ্রহটিকে বিভক্ত করে বসবাস করছে। এই সকল রাষ্ট্রের মধ্যে পারস্পরিক কূটনৈতিক, পর্যটন, বাণিজ্য ও সামরিক সম্পর্ক বিদ্যমান। মানব সংস্কৃতি গ্রহ সম্পর্কে বিভিন্ন ধারণার জন্মদাতা। এই সব ধারণার মধ্যে রয়েছে পৃথিবীকে দেবতা রূপে কল্পনা, সমতল বিশ্ব কল্পনা এবং পৃথিবীকে মহাবিশ্বের কেন্দ্ররূপে কল্পনা। এছাড়া একটি সুসংহত পরিবেশ রূপে বিশ্বকে কল্পনা করার আধুনিক প্রবণতাও লক্ষিত হয়। এই ধারণাটি বর্তমানে প্রাধান্য অর্জন করেছে।